ভজন বিশ্বাসের কবিতা



গুচ্ছ কবিতা
ভজন বিশ্বাস

ভজন বিশ্বাস পেশায় শিক্ষকতার সাথে যুক্ত। শুন্য দশকের শেষের দিকে লেখালেখির অভ্যাস শুরু করেন। ছোটো কাগজের বাইরে সেভাবে লেখেননি কখনো। প্রকাশিত বই 'কলমি ঘাসের রুমাল' (শহরতলি, ২০২৩) ।


কবিতা

১।

কবিতার ভিতর বিষন্ন রং
মেঘলা
 
এইরকম দুপুরে প্রফেশনাল কিলার হতে ইচ্ছে করে
 
ইচ্ছে করে স্কুটি থামিয়ে চুমু খাই
হাতে হাত রাখি
 
ছায়া পড়ে জলের
স্মৃতির -
 
না চেনার
 
শরীর থেকে খসে পড়ে পাতা
সকাল রাত্রি
 
 
 

২।

মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়
একলা রেলিং
 
বৃষ্টি পাঁচিল পেরিয়ে অনেক দূরে –
 
খসে পড়ি
 
যতবার ছুঁয়ে দিতে গেছি কাঁচ টুকরো
যতবার প্রিয় বলতে চেয়েছি অক্ষর ভেঙে ফুটপাথ –
 
প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে বিছানায় হাত রাখি
 
কান্না শুয়ে আছে
 


৩। 

 কথা নয়
 
খুলে দিচ্ছি শরীর অলঙ্কার আর
মা
 
ছোটো বেলার স্বপ্নে ডুবে যাই
ছায়া হওয়ার আগেই ইচ্ছে ঘুমিয়ে পড়ে
 
বুকের অর্ধেক জুড়ে সূর্যরং
ফিকে হয়ে রাস্তায় নেমে আসি
 
আলো দেখি , দেখি ঘর
 
বাবাকে মনে পড়ে
 
একটা অন্ধকার মুখ…
  


৪।

ইদানিং ঘুমের ভিতর সাপ আসে
হলুদ কালো ডোরাকাটা
 
ছেলে…
 
আর আমি…
 
জড়োসড়ো হই
হাতে হাতে শব্দ করি জল ছুড়ে মারি
 
সাপ চেরা জিভ বের করে বুঝে নিতে চায়
 
কতটা নিরাপদ
 
আর কতটা আমাদের ভয়
                
 

৫।

পাড়ায় বৈঠক হয়, হাতে হাতে তুলে দেওয়া হয়, ত্রিপল গুড় চিড়ে মুড়ি
 
জলে ভেসে যায় বিদ্যাসাগরের ছেলেবেলা,
খোকার হাতের পেনসিল 
 
মার্সিডিস আসে , মাথার উপর হেলিকপ্টার
মন্ত্রী নামেন
ফোনের ক্যামেরায় জল থইথই
 
 

৬।

লিখতে লিখতে রান্না ঘরে যাই
গ্যাস জ্বালি
 
সাইজ করে কড়াইয়ে তেল লঙ্কা নুন সহ ভাজা হয় জীবন
 
একটা অ-উন্মোচিত কবিতা
 


৭।

এক এক করে সব খুলে রাখি
জানালার পর্দা বালিশের ওয়ার
 
ভাঁজ করে রাখি উঠোন ভাঙা তাকে
 
 
নতুন যা কিছু চেয়ারের ভাঙা হাতলে
 
 
পান্ডুলিপি ঠিকঠাক লেখা হলে ফুলের জন্ম দিতে পারে
 
ভুলেরও
 
 

৮।

পুড়ে পুড়ে
এই সিদ্ধান্তে আসা হল
এই যে মায়া নামক সম্পর্ক বা সম্পর্ক নামক রিয়্যালিটি শো
 
এর পেছনে আর কেউ নন
একজন ঈশ্বর থাকেন
 
সে তুমিও হতে পারো !
আমিও
 


৯।

এই লাইনগুলো যখন লিখি, রাত ১১.৪৮ মিনিট
 
বৃষ্টির পর ঝকঝকে আকাশ খেলা করে মাথার উপর কাঁচের চাঁদ
 
রাস্তায় কোনো লোক নেই ছায়া আছে
গাছের পাতায় টুপটাপ জ্যোৎস্না ঝরে পড়ে
কোথাও পাখি ডাকে না
 
এরপর কিছুই আসছে না দেখে
 
উঠোনে হাঁটি কথা বলি
 
একটা ইঁদুর বের হয়ে আসে
রুটি ছিঁড়ে দিতে গিয়ে দেখি চাঁদের রক্ত লেগে আছে হাতে –
 

 

১০। 

প্রিয় বলে লিখিনি কিছুই
কাঁচ শহরে
 
গাছের কোনো অভিমান নেই
 
জোনাকির ডানা
আর–
 
অভাবী দাগ বুক পকেটে
 
এরকম ছায়া নিয়ে ঢুকে যাই
 
বেজে ওঠে —
 
ভিখিরির গান      


 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ