দেবমিত্রা চৌধুরীর কবিতা

 

ভুল হচ্ছে হয়তো

দেবমিত্রা চৌধুরী

প্রকাশ : অক্টোবর ২০২৩,
প্রকাশক : শহরতলি,
প্রচ্ছদ : প্রশান্ত সরকার,
মূল্য – ১১০ টাকা।

দেবমিত্রার জন্ম ১৯৯১, পশ্চিমবঙ্গের মালদা শহরে। শিক্ষা ও বেড়ে ওঠা কোচবিহারে। ইংরেজী স্নাকত্তর এই কবির লেখালেখির শুরু মূলত প্রথম দশকের শেষের দিকে। যে সকল বাংলা ছোটো কাগজের মধ্যে দিয়ে দেবমিত্রা কবিতার মূল স্রোতে এসেছেন তাদের মধ্যে  ‘উত্তর ভূমিকা’, ‘শাঙ্খিক’, ‘চিত্রকল্প’, ‘চা-পাতা’ পত্রিকাগুলি উল্লেখযোগ্য। কবিতা চর্চার পাশাপাশি গল্প, রুপকথা লেখায় সমানভাবে পারদর্শী কবি গান গাইতে ও শুনতে ভালোবাসেন। অবসর সময়ে জীবনের কোলাজ তৈরী করেন।
দেবমিত্রা চৌধুরীর প্রথম প্রকাশিত কবিতার বই - ‘ভুল হচ্ছে হয়তো’ 


কবিতা

বৃত্ত

যেখানে সিদ্ধার্থ শুরু, শুরু হয় লোক ও নারীর ভূমিরেখা,

আমি সেই দিকপ্রান্ত খুঁজি, সেই অভিজন ...

মেরামত করার মতো অতীত থাকেনা বলে স্মৃতিচারণভূমিতে বসে থাকি।

সেখানেই, জেনানা ও আসবাব নিয়ে আসে অসমর্থ মানুষ_

দু'য়েকটা কথার জন্য ওরাও আমাকে দেয় শোচনীয় ফসল.....


সহযান

উৎসের খোঁজে এক অহল্যাতরল তার ফেলে আসা পথে ফিরে গেছে।

শরীরের সব রক্ত, উত্তাপ, ধুলা ও উপলকুচি ধুয়ে, আমিও তো স্বভাববিরুদ্ধ স্রোতে ফিরি_

কতদূরে শুরু হয় আমাদের নদী-পরিচয় ?

  

ঘুমোবার আগে


মা এখনও ঘুমোয়নি।

রান্নাঘর থেকে শোবার ঘর পর্যন্ত

সমস্ত তাপ নিভিয়ে

তাকে আসতে হয় আমার উষ্ণতায়_

আগুন থেকে সরাসরি জলে আসতে নেই ।

মা তাই জিরিয়ে নিচ্ছে ঘুমোবার আগে...



নির্বান


মৃত্যুর সময়ও কি নিজেকে ঘুমন্ত মনে হবে ?

সংহত দোহনের পরে, সব খেজুর গাছের স্বাদ, সমস্ত রবিবার কয়েক পারদ নীচে নেমে যায় ।

স্বীকৃত চামড়ার মধ্যে দিয়ে পিছলে যায় বহুবর্ষজীবী প্রত্যয় আর

হাত, মুখ, চুল ও পোশাক রক্তে ভিজে গেলে, আকাশ আঁকার মতো তুমি ঠোঁট মুছে নাও__

তখনও কি মনে হবে

মায়ের মতোই সব, সব অসুখ ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাবে

 

 

এক একটা জীবন


মেঘ থেকে ঠান্ডা মুছতে থাকা রোদ, কি সুন্দর আমাদের নির্ভার করে তোলে।

সাবেক ধানের মাঠ,শীত থেকে গ্রীষ্ম অব্দি শুয়ে থাকা নদীটির দিকে চেয়ে বিশ্রাম নেয় ৷

সন্ধ্যায় আলো দেয় বাছুর জন্মের চাঁদ।

নাজকাদের সংগৃহীত চায়ের গল্পগুলো মাটি থেকে পাতা অব্দি অঙ্কুরিত হয়।

এক একটা জীবন, এভাবেই আমাদের অবাক হওয়ার দিকে তাকিয়েই থাকে .....

তবুও কি বোঝে কেউ, কাকে ঠিক কতখানি লিখিত সঙ্গ দিতে হয় ?

 

 

যেতে হয় বলে


ক্ষয়প্রাপ্ত বন্ধুদের নিয়ে ভ্রমণের আয়োজন শেষ

আহা, এই যাত্রা হবে স্বপ্নের মতো।

এ যাত্রায় আমাদের চারণভূমি, গবাদিপশু, কাঠ ও স্বর্ণ প্রয়োজন।

হাওয়ার সাথে হাওয়া, সঙ্গীদের কাছ থেকে কিছুটা বিস্ময়, ঘুমন্ত মাঠ পার হতে থাকি

বাদামি বৈঁচি, ট্রাক, মোমবাতির গন্ধ, পোকা, রঙিন মাশরুম- এতদূর এসে 

ফের একবার থামতে হয়, শ্বাস নিতে হয়।

ঐ আরো আরও দূরে শাখাপ্রশাখার পথ, জায়মান ক্রশওয়াকার দেখা যায় ...

যেতে যেতে স্বর্ণ শেষ, পশুরাও ক্লান্ত হয়ে আছে। অবশিষ্ট কাঠ দিয়ে গরম হচ্ছে কিছু মেঘাচ্ছন্ন কফি।

এসময় আমাদের মুখগুলো দুর্ভাগ্যজনক।

আমাদের রাস্তাঘাট অসুস্থ স্বপ্নের চেয়েও মলিন .....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ